কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর একটি পক্ষ গায়েবি মামলা, মামলা নিয়ে বাণিজ্য এবং প্রকৃত অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। এর ফলে আমাদের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার সকালে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, বর্তমান বিএনপি সরকার সঠিক পথে এগোচ্ছে এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে চার্জশিট দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “যারা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, তারাই আজ দেশপ্রেমের দীক্ষা দিচ্ছে এবং জনগণকে দেশপ্রেমের বয়ান শোনাচ্ছে।”
জুলাই যোদ্ধাদের উদ্দেশে তিনি আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, “আমি খুব ব্যথিত। আমরা এত অল্প সময়েই জুলাই যোদ্ধাদের ভুলে যেতে বসেছি। তাদের প্রাপ্য সম্মান আমরা দিতে পারিনি। সকল জুলাই শহীদ, আহত যোদ্ধা এবং যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলতে চাই—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং আমি জুলাইকে বিশ্বাস করি, স্মরণ করি; যেমনিভাবে বিশ্বাস করি কালিমা তাইয়্যিবাকে। ঈমানী দায়িত্ববোধ থেকেই বিশ্বাস করি, জুলাই যুদ্ধ আমাদের অর্জন এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক গৌরবময় অধ্যায়।”
এর আগে দিবসটি উপলক্ষে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে টাউন হল প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
জেলা প্রশাসক রোজী আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. আলী নুর মোহাম্মদ বশির, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিরুজ্জামান ভুঁইয়া, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ, শহীদ সাদমানের মা কাজী শারমিন, শহীদ মাসুমের বাবা শাহীন মিয়াসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধা, আহত ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। নতুন প্রজন্মের কাছে এ আন্দোলনের ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও চেতনা তুলে ধরতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।