শাহীন সুলতানা
কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বিবাহবিচ্ছেদের পর সাবেক স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে প্রবাসী সাবেক স্বামীর তিন বোনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন রিমা বেগম (২৪), আকলিমা বেগম (২২) ও শাপলা বেগম (৩২)। তারা মামলার প্রধান আসামি প্রবাসী জামাল হোসেনের বোন।
মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সামাজিকভাবে জামাল হোসেনের সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর বিয়ে হয়। তবে দাম্পত্য কলহের জেরে চলতি বছরের ১২ মে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।
অভিযোগে বলা হয়, দাম্পত্য জীবনের বিভিন্ন সময়ে জামাল হোসেন কৌশলে স্ত্রীর একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও নিজের মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখেন। বিচ্ছেদের পর তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সেসব ছবি পাঠিয়ে ভুক্তভোগীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে ছবি ও ভিডিও ফেসবুক, মেসেঞ্জারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
ক্রমাগত মানসিক নির্যাতন ও সামাজিক মর্যাদাহানির আশঙ্কায় ভুক্তভোগী নারী গত ১৯ জুলাই কিশোরগঞ্জ আদালতে সাবেক স্বামী জামাল হোসেনসহ চারজনের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি পরবর্তীতে কুলিয়ারচর থানায় এজাহার (এফআইআর) হিসেবে রেকর্ড করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুলিয়ারচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সারফিন মিয়ার নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গত ২ আগস্ট সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার পিঠাপই গ্রাম থেকে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় এজাহারভুক্ত তিন নারী আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, মামলার প্রধান আসামি জামাল হোসেন বর্তমানে গ্রিসে অবস্থান করছেন। ফলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, সাইবার অপরাধ ও ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে নারীদের ব্ল্যাকমেইল ও হয়রানির ঘটনায় পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সচেতন মহলের মতে, প্রধান আসামিকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অপরাধ প্রবণতা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।