মোঃ খাইরুল ইসলামনিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কালামপুর শিল্পকুঞ্জ পার্ক এলাকায় অটোরিকশা ছিনতাইয়ের সময় বাধা দেওয়ায় সুমন মিয়া (২২) নামে এক অটোরিকশা চালককে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুমন মিয়া নাটোর জেলার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কালিয়াকৈর উপজেলার সাহেববাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সুমন মিয়া চন্দ্রা থেকে যাত্রী নিয়ে কালামপুর শিল্পকুঞ্জ পার্ক এলাকায় যাচ্ছিলেন। পথে ৩ থেকে ৪ জনের একটি দুর্বৃত্ত চক্র তার অটোরিকশার গতিরোধ করে ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায়। এ সময় তিনি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে শুরু করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলায় আঘাত করে অটোরিকশাটি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় সুমন মিয়াকে উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর কালামপুর এলাকার আশপাশে অভিযান চালিয়ে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
কালিয়াকৈর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই চালককে হত্যা করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনার পর কালিয়াকৈরের অটো ও সিএনজিচালকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। চালকদের অভিযোগ, কালামপুর শিল্পকুঞ্জ পার্ক ও আশপাশের সড়কে রাত ৮টার পর ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়।
স্থানীয় অটোরিকশা চালক রফিক বলেন, “সুমন ভাই আমাদের সঙ্গেই কাজ করতেন। রাতের বেলা এই সড়কে আমরা সবাই ভয়ে চলাচল করি। প্রশাসন যদি নিয়মিত টহল জোরদার না করে, তাহলে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা ওই এলাকায় রাতের নিরাপত্তা জোরদার, নিয়মিত পুলিশ টহল বৃদ্ধি এবং দ্রুত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।