মোঃ খাইরুল ইসলামনিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত মাস থেকে চলতি মাসের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে গত মাসে ২৭ জন এবং চলতি মাসের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা নেওয়ার চিত্র দেখা যায়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে অনেকেই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় এ পর্যন্ত ৬ জন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অতিরিক্ত সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। প্রতিরোধে সচেতনতার আহ্বান,
ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত রোগ, যা সাধারণত এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার হতে পারে। তাই বাড়ির ভেতর ও আশপাশে পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা। চিকিৎসক ডা. সাদিয়া তাসমিন মুনমুন ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণের পরামর্শ দেন।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা জানান, বাসাবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস, দোকানপাট ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। বিশেষ করে পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রাম, বালতি, টব, টায়ারসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো পরিষ্কার করে রাখতে হবে। এদিকে জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, দুর্বলতাসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে ওষুধ সেবন না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা ও জমে থাকা পানি অপসারণের মাধ্যমে এডিস মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। সার্বিকভাবে, কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত মাসে ২৭ জন এবং চলতি মাসে ৪৭ জনসহ মোট ৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে ১১ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন