মোঃ কামাল সিকদারঝালকাঠি,
নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকা এবং সরকারি কার্যালয় তালাবদ্ধ রাখার অভিযোগে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন খানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ। এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় ওই কার্যালয়ের আরও দুই কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই শুক্তাগড় ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে যান বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ। এ সময় অফিসে উপ-সহকারী কর্মকর্তা কামাল হোসেন খানসহ কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকেই পাওয়া যায়নি। এমনকি সরকারি কার্যালয়টিও তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। পরে স্থানীয় এক দপ্তরি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এসে অফিসের তালা খুলে দেন। পরিদর্শনকালে বিভাগীয় কমিশনার অফিসের আশপাশের স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ও পাশের একটি মুদি দোকানের কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ওই ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সাধারণত সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার আগে কর্মস্থলে উপস্থিত হন না।
এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “কাউকে না জানিয়ে সকাল ৯টায় শুক্তাগড় ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শনে যাই। সেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি এবং অফিস তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। অফিস প্রধান হিসেবে এ ধরনের অনুপস্থিতি দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলার বহিঃপ্রকাশ। তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত কর্মসময়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং সরকারি কার্যালয় তালাবদ্ধ রাখার বিষয়টি গুরুতর অপরাধ। এ কারণে উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন খানকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া একই অফিসের অফিস সহায়ক মো. মাহবুবুর রহমান ও মনোতোষ হালদারকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের জবাব সন্তোষজনক না হলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঝালকাঠির জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন