নয়ন হোসেনঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। উপজেলার ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৬টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক। এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সহকারী শিক্ষকের ৯৭টি পদও শূন্য রয়েছে। ফলে প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি নিয়মিত পাঠদান করতে গিয়ে বাড়তি চাপের মুখে পড়েছেন শিক্ষকরা।
হরিপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে মোট ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৩৬টি বিদ্যালয়ে বিভিন্ন মেয়াদে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় এসব বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ১১০টি বিদ্যালয়ে অনুমোদিত শিক্ষক পদের সংখ্যা ৬৮৭টি। এর মধ্যে সংরক্ষিত পদ রয়েছে ১৯টি। বর্তমানে কর্মরত শিক্ষক রয়েছেন ৫২৫ জন। প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও সংরক্ষিত পদসহ মোট ১৮১টি পদ শূন্য রয়েছে।
শিক্ষকরা জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে একদিকে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে নিয়মিত ক্লাসও নিতে হচ্ছে। ফলে প্রশাসনিক দায়িত্ব ও পাঠদান দুই কাজ একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ভাতুরিয়া ইউনিয়নের ১৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে গোপালপুর-২ ও ভূতডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এ ইউনিয়নে সহকারী শিক্ষকের ১৬টি পদও শূন্য রয়েছে।
তাঁতীহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানান, গত ছয় মাস ধরে বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি নিয়মিত পাঠদান করতে গিয়ে তাকে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
ডাঙ্গীপাড়া ইউনিয়নের শীতলপুর-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও তিন মাসের বেশি সময় ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুরাদ বকস সরকার বলেন, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিয়মিত ক্লাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
হরিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ২০২৫ সালে প্রধান শিক্ষক মারা যাওয়ার পর সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। বিদ্যালয়টিতে ১০৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে এবং বর্তমানে দুই শিফটে পাঠদান কার্যক্রম চলছে। তবে প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে শিক্ষক সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়গুলোর স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক করার দাবি জানান তারা।
হরিপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ বলেন, “শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে সরাসরি নিয়োগের জন্য সার্কুলারের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রধান শিক্ষকসহ শূন্য পদগুলো অচিরেই পূরণ হবে। শিক্ষক সংকট দ্রুত নিরসন করে হরিপুর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন