শফিকুল ইসলাম (সুমন)মাগুরা জেলা প্রতিনিধি
মাগুরার শালিখায় ধানের বাজারে কথিত অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারসাজিতে চরম বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক ও সাধারণ কৃষকরা। কৃষকদের অভিযোগ, মধ্যস্বত্বভোগী ও কিছু চালকল মালিকের যোগসাজশে ধানের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।
উপজেলা সদর আড়পাড়াসহ উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে ধান উৎপাদনে কৃষকদের খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। সার, বীজ, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে কয়েকগুণ। তবে সেই তুলনায় বাজারে ধানের দাম বাড়েনি। ফলে ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তোলাই অনেক কৃষকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, ধান বাজারে আনার পর স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগী জোটবদ্ধভাবে দাম কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কৃষকেরা একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় ব্যবসায়ীরা নিজেদের মতো করে দাম নির্ধারণের সুযোগ পাচ্ছেন। এতে প্রকৃত কৃষকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক জানান, ধান উৎপাদনের সময় কৃষককে সব ধরনের খরচ বহন করতে হলেও বিক্রির সময় বাজারদর নির্ধারণে তাদের কোনো কার্যকর ভূমিকা থাকে না। উৎপাদন খরচ, পরিবহন ও শ্রমিকের মজুরি বাদ দেওয়ার পর ধান বিক্রি করে কাঙ্ক্ষিত লাভ তো দূরের কথা, অনেক সময় মূলধনও ঠিকমতো ফেরত পাওয়া যায় না।
কৃষকদের আরও অভিযোগ, ধানের বাজারে দাম কমিয়ে রাখার ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগী ও কিছু চালকল মালিকের যোগসাজশ থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী বা চালকল মালিকদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে সরকারি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়েও কৃষকদের মধ্যে নানা অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ করা হলেও প্রকৃত ও প্রান্তিক কৃষকদের একটি অংশ কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে একদিকে খোলাবাজারে ধানের ন্যায্যমূল্য মিলছে না, অন্যদিকে সরকারি সংগ্রহ কার্যক্রমেও প্রত্যাশিত সুবিধা না পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
কৃষকরা বলেন, ধান উৎপাদনের পর যদি ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে অনেক কৃষক ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন। এতে শুধু কৃষকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে স্থানীয় কৃষি উৎপাদন ও অর্থনীতিতেও।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, ধানের প্রকৃত বাজারমূল্য নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করতে হবে। একই সঙ্গে ধান কেনাবেচায় ওজন ও মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার ব্যবস্থা জোরদার করা এবং সরকারি খাদ্যগুদামে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া বাজারে কথিত সিন্ডিকেটের অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা। শালিখার সাধারণ কৃষকদের প্রত্যাশা, ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে প্রশাসন। একই সঙ্গে ধানের বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জরুরি হস্তক্ষেপ করবে, এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন