নয়ন হোসেন, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ে চুরি হওয়া ইজিবাইক উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে চোরচক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইজিবাইকের খুচরা যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, গত ৩ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার উত্তর হাজীপাড়া এলাকার মিথিলা হোটেলের সামনে ইজিবাইক রেখে খাবার খেতে যান চালক আব্দুল কাদের। এ সুযোগে চোরচক্রের সদস্য ফেরদৌস (২৪) ও রাজা (২৪) ইজিবাইকটি চুরি করে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে চালক ও স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে ইজিবাইকসহ তাদের দুজনকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে এ ঘটনায় ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।
গ্রেপ্তার দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, একই চক্র গত ২৩ জুলাই শহরের বলাকা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে থেকে আরও একটি ইজিবাইক চুরি করে। পরে সেটি দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা মো. ফজল (৫৫)-এর কাছে বিক্রি করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয় পুলিশ।
পরবর্তীতে ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশের পাশাপাশি দিনাজপুর জেলা পুলিশের একটি যৌথ আভিযানিক দল বোচাগঞ্জ থানার রেলকলোনী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. ফজলকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইজিবাইকের যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া আলামতের মধ্যে রয়েছে ৮টি ইজিবাইকের মোটর, ১৫টি চার্জার, ১০টি কন্ট্রোলার, ২০টি চাবির মিটার, অটোচার্জার, গাড়ির হুক এবং গাড়ি খোলার বিভিন্ন সরঞ্জাম।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ফজল দীর্ঘদিন ধরে চোরাই ইজিবাইক কম দামে কিনে সেগুলো খুলে পৃথক যন্ত্রাংশ হিসেবে বেশি দামে বিক্রি করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে চুরি ও দস্যুতাসহ পূর্বের ৬টি মামলা রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খোদা দাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি মোটরসাইকেল বা ইজিবাইক চুরি-সংক্রান্ত কোনো তথ্য জানা থাকলে নিকটস্থ থানা বা জেলা পুলিশকে অবহিত করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।